নাগরিক সাংবাদিকতার আদ্যপান্ত আলোচনা

Ad

নাগরিক সাংবাদিকতার আদ্যপান্ত আলোচনা


নাগরিক সাংবাদিকতা কী এই প্রশ্নের সহজ উত্তর সংবাদকর্মী নয় কিন্তু সাধারণ জনগন যখন কোনো সংবাদ প্রচার করে তখন সেটিকে সিটিজেন জার্নালিজম বলা হয় । ধরুন আপনার এলাকায় একটি সড়ক দূর্ঘটনা ঘটলো সেখানে সাংবাদিক পৌছানোর আগেই সেখানকার একজন সচেতন নাগরিক সেই সংবাদটি তার ফেসবুক ওয়ালে দিয়ে দিল এবং কি লাইভ করলো এটাকে নাগরিক সাংবাদিকতা বলে । এখন মনে প্রশ্ন আসতে পারে তবে কি এই ফেসবুকের যুগে সাংবাদকর্মীর প্রয়োজন ফুরিয়ে যাচ্ছে বা যাবে এই প্রশ্নের সহজ উত্তর হচ্ছে নাগরিক সাংবাদিক কোনো দিন সাংবাদিকের স্থান দখন করতে পারবে না এর কারণ হিসেবে বলা চলে একজন সাংকাদিক জানেন যে কোনটি তথ্য আর কোনটি সংবাদ । সাংবাদিক তথ্যকে সংগ্রহ করে সম্পাদনার মাধ্যমে একটি নিখুত সংবাদ পরিবেশন করে কিন্তু নাগরিক সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে সাংবাদটি সত্য কি না সেই প্রশ্ন থেকে যায় । তবে বর্তমান যুগে নাগরিক সাংবাদিকতার প্রয়োজন অস্বীকার করার উপায় নেই । আব্রাহাম জ্যাপ্রুডারকে (Abraham Zapruder) কে নাগরিক সাংবাদিকতার জনক বলা হয়ে থাকে । তিনি বিশ্বের মধ্যে প্রথম এই ধারনা প্রচলন করেন।আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি হত্যাকাণ্ডের ৫৬ বছর হতে চলছে। গণনা করা হয় নাগরিক সংবাদিকতারও বয়স ৫৬ হবে।১৯৬৩ সালে জন এফ কেনেডিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সেই মুহূর্তটিকে জ্যাপ্রুডার ধারণ করেন তার সাধারণ চলমানদৃশ্য ধারণ ক্যামেরায়। এই আধেয়টিকে নাগরিক সাংবাদিকতার আদি দৃষ্টান্ত মানা হয় এবং জ্যাপ্রুডারকে বলা হয় নাগরিক সাংবাদিকতার পথিকৃৎ।নাগরিক সাংবাদিকতার জন্ম ইতিহাসের আরেক পর্ব ঔপনিবেশিক যুগের। আমেরিকার প্রথম পত্রিকা প্রকাশকারী পেশায় ছিলেন বোস্টন শহরে বই বিক্রেতা ও প্রকাশক। বেঞ্জামিন হ্যারিসের (Benjamin Harris) পত্রিকা পাবলিক অকারেন্সেস (Publick Occurrences) প্রকাশ হয়েছিল ১৬৯০ সালে। এর শেষ পৃষ্ঠাটি ইচ্ছাকৃতভাবে খালি রাখা হতো যেন নগরবাসীরা বন্ধু বা প্রতিবেশীদের সাথে পত্রিকা বিনিময়কালে তাতে স্থানীয় ঘটনা বা পাদটিকা হাতে লিখে দিতে পারে।ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরিতে  (University of Missouri) সাংবাদিকতা অনুষদের জন্মলগ্ন ১৯০৮ সাল হচ্ছে পেশাদার সাংবাদিকতা শিক্ষার যাত্রাবর্ষ।  তাহলে এর পূর্বে যারাই সংবাদ সংগ্রহ, প্রকাশ ও বিতরণে কাজ করেছেন, তারা সকলেই মূলত নাগরিক সাংবাদিক ছিলেন।ইন্টারনেটের সূতিকাগার যেমন আমেরিকা, নাগরিক সাংবাদিকতার ক্ষেত্রও তেমনি গড়ে উঠেছিল আমেরিকাতেই। আলোচিত নাগরিক সাংবাদিকতার দৃষ্টান্তগুলো সেকারণেই যেন হয় আমেরিকাতে, নয়তো আমেরিকাকে ঘিরে।বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্লগ নাগরিক সাংবাদিকতার সুযোগ দিচ্ছে তারমধ্যে সামহ্যায়েরাইন ব্লগ ,বিডিনিউজ২৪ ব্লগ এবং কি প্রথমআলোর মতো অনলাইন নিউজ পোর্টালে নাগরিক সাংবাদিকের সংবাদ পরিবেশনের সুযোগ করে দিয়েছে ।যদি নতুন করে নাগরিক সাংবাদিকতার পরিচিতি আবার পায় তবে বাংলাদেশে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে যেটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য অনেক সুবিধা হবে তথ্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে তবে এর মধ্যে কিছু ঝুকি রয়েছে তাহলো গুজব।  যাতে কোনো নাগরিক সাংবাদিক গুজব ছড়াতে না পারে সেজন্য অবশ্যই এই সাংবাদিকতার জন্য কিছু নীতিমালা ব্যবহার করা প্রয়োজন।যদিও এখনো অনেকে এই বিষয়ে তেমন কিছু জানে না তবে এটি দ্রুত বাংলাদেশে পরিচিতি পাবে বলে আমি মনে করি ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য