বাংলাদেশ মরে গেছে, বেঁচে আছে কেবল উন্নয়ন!উন্নয়নের একটা এভিডেন্স থাকা দরকার

Ad

বাংলাদেশ মরে গেছে, বেঁচে আছে কেবল উন্নয়ন!উন্নয়নের একটা এভিডেন্স থাকা দরকার


গতকাল ট্রেনে করে রাজশাহী ফিরতে ফিরতে দেখি বগি থেকে এক ডিমবিক্রেতা হকারের কান ধরে টানতে টানতে এক পুলিশ নিয়ে গেলো, অথচ অন্য ফেরিওয়ালারা দিব্যি বিক্রি করছে! বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমি সম্ভব হলে বাংলাদেশের ট্রেনে তুলে দিতাম ছদ্মবেশে। তিনি দেখতে পেতেন কিভাবে উনার নাতির বয়সী বাচ্চাদেরকে ঝুড়িতে করে ডিম বেচতে হয়, কিভাবে চরম ঝুঁকি নিয়ে রেল লাইন পার হতে হয় হতভাগা শিশুটিকে, কিভাবে নাকের সর্দি ঝাড়তে ঝাড়তে উদভ্রান্ত পাগলী মা'টি হাত পেতে টাকা চায় মানুষের কাছে। একটা টাকা দ্যাও, ভাত খামু!
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সম্ভব হলে আমি তুলে দিতাম পাবলিক বাসগুলোতে। যেখানে প্রায় প্রতিটি মেয়েকে ফাইট করতে হয় ওড়না টেনে ধরা, বুকের কাছে ইচ্ছে করে গুঁতো দেওয়া এবং ভিড়ের সুযোগে গায়ে হাত দিতে আসা লোকদের সাথে।
অবশ্য উনি নিজেও জানেন কিভাবে রুম্পার বাবা পুলিশ হলেও দুই বিল্ডিংয়ের মাঝখানে রেপড লাশ পড়ে থাকে তার, কিভাবে তনুকে খেয়ে ফেলে ভালুকে, কিভাবে উনার ভাতিজা শেখ ফজলে নূর তাপসের ওকালতিতে জামিন পায় বনানী ধর্ষণ কেসের প্রভাবশালী আসামীরা!
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সম্ভব হলে আমি তুলে দিতাম মিডলইস্ট থেকে দেশে ফেরা সেইসব নারী শ্রমিকদের কাতারে, যারা দিনের পর দিন চাকরি না পেয়ে বিদেশে গিয়ে রেপ হয়ে ফেরে, হাজারো লাশ হয়ে ফেরে, যাদের রেমিট্যান্সে মন্ত্রীসভার অকর্মাদের ফুটানি হয় এবং তখন তার মন্ত্রীসভার সদস্যরা বলেন- সংখ্যাটা বিশাল কিছু নয়!
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকেন ভদ্রপল্লীতে। মেট্রোরেলের কারণে অস্বাস্থ্যকর হওয়া রাস্তায়, বায়ুদূষণ আর মশার কামড়ে কয়েক লাখ লাশের শহরে উনি থাকেন না, বাসের ধর্ষক মনের নারীকে তেঁতুল ভাবা পুরুষের ভিড়ে, স্টেশনের পাশের নোংরা ডাস্টবিনে খাবার খুঁজতে থাকা শিশুদের আশেপাশে উনাকে খুঁজে পাওয়া যাইবে না!
প্রধানমন্ত্রী থাকেন ভদ্রপল্লীতে, রেপ হওয়া নারীদের মা উনি হতে পারেন না!
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকেন সেই ভদ্রপল্লীতে যেখান থেকে বের হওয়ার পরে ঘন্টার পর ঘন্টা মানুষকে যানজটে ফেলে রেখে দাসের মতো আচরণ করার পর একটি অগণতান্ত্রিক দেশকে গণতান্ত্রিক বলে আদর করতে তার বাধেনা!
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকেন সেই ভদ্রপল্লীতে যেখান উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে যায় রেপ কেস, ভেসে যায় আবরার, ভেসে যায় সাধারণ জনগণের ঘামের টাকা। টিকে থাকে জেলখানা আর তার ক্যাডার বাহিনী, টিকে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টর্চার সেলগুলি।
আশাকরি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন বোর্ড টিকে থাকবে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি টিকে থাকবে, আর আমাদের রোগ শোকে মরে যাওয়া লাশগুলোর পাগুলোতে ঝুলবে- বাংলাদেশ মরে গেছে, বেঁচে আছে কেবল উন্নয়ন!
উন্নয়নের একটা এভিডেন্স থাকা লাগবেনা?
----©জন্নাতুন নাঈম প্রিতি

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য