কুসংস্কার কি চলমান প্রক্রিয়া নাকি শেষ আছে?

Ad

কুসংস্কার কি চলমান প্রক্রিয়া নাকি শেষ আছে?


আমাদের সমাজের শিক্ষিত সমাজসহ কমবেশি সকল শ্রেণির মানুষ কুসংস্কার বিষয়ে কোনো কোনো সময় সজাগভাবে সচেতন আবার কোনো কোনো সময়ে অচেতন । কুসংস্কার শব্দটির আমাদের মনের মধ্যে যখন  আসে তখন আমাদের মনের মধ্যে খেলা করে এই বিষয়টি অযৌক্তিক, তবে সব সময় , সবার মাঝে, সবার মনে আসে না যে কুসংস্কার অযৌক্তিক। মনে অযৌক্তিক ভাব না আসার কিছু কারণ আছে ধরুন আপনার গলায় মাছের কাটা আটকে গেছে হইতো আপনি কারো কাছে শুনলেন যে আপনাকে বলতেছে যে বিড়ালের পা ধরলে কাটা চলে যাবে ।হয়তো আপনি গলার কাটা অসহ্য লাগার কারণে সাময়িক সময় বিশ্বাস করলেন যে হয়তো বিড়ালের পা ধরলে গলায় আটকানো কাটা চলে যেত কিন্তু আপনি যদি একটু সচেতন হন তবে একটু পরেই চিন্তা করবেন যে এটা সম্ভব না । যেহেতু আপনি বিশ্বাস করলেন না তাই যদি কোনো দিন আপনার পরিচিত কারো গলায় মাছের কাটা আটকায় নিশ্চয় আপনি এই কুসংস্কাটির চর্চা করতে বলবেন না এতে করেই একদিন কুসংস্কার দূর হবে তবে এটি একটি দীর্ঘ মেয়েদী প্রক্রিয়া কারণ এখনো আমাদের দেশে শিক্ষার হার শতভাগ হয়নি তবে বেশি দিন নেই শিক্ষারহার শতভাগ হবে এবং সেই সময় আর কুসংস্কার থাকবে না । এই কুসংস্কারটি সচরাচর বাড়ির বৃদ্ধ মানুষেরা বিশ্বাস করে বা করতো কিন্তু বর্তমান সময়ে যে আধুনিক প্রজন্ম তৈরী হচ্ছে বিভিন্ন অনলাইন গেম খেলে দিনের বেশির ভাগ সময় ইন্টারনেট ব্যবহারে ব্যায় করে তাকে বোঝানো সম্ভব না ।যদিও বিপদে পড়লে অনেকে সামান্য হলেও কুসংস্কারে বিশ্বাসকরে বা করতে হয় পারিপাশ্বিক অবস্থার ভিত্তিতে কিন্তু সেটি মনের গভীর থেকে মন না। তাই এই কুসংস্কারটিকে চলমান প্রক্রিয়া বলা চলে না । আমাদের যেহেতু এখনো শতভাগ শিক্ষারহার হয়নি তাই এখনো বলা চলে জনসংখ্যার খুব সামান্য একটা সংখ্যা কুসংস্কারের বিশ্বাসী হবে  তবে সেটি বেশি প্রভাব ফেলতে পারবে না কারণ হচ্ছে বর্তমানে আমাদের পৃথিবী আধুনিকতার উচ্চতর স্তরে পৌছে যাচ্ছে এখন আর চাঁদ মামা চাঁদের বুড়ির কথা বেশি শোনা যায় না কারণ আধুনিক বিজ্ঞান চাঁদকে জয় করে ফেলেছে তাই শিক্ষিত সমাজের এখন আর কেউ চাঁদ মামার গল্প ,চাঁদের বুড়ির গল্প বলে না এতে বোঝা যায় আধুনিক বিজ্ঞান অনেক বেশি সাহায্য করছে কুসংস্কার নির্মূল করতে । তবে কুসংস্কারের শিকার অনেকে দূর্বল মানসিকার মানুষেরা হয়ে থাকে কিন্তু বর্তমানে বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় সব কুসংস্কারের অযৌক্তাকে প্রমাণ করা যায় বলে সমাজ থেকে কুসংস্কার বিদায়ের পথে । 
কুসংস্কার থাকলে কি আমাদের সমাজের তেমন কোনো ক্ষতি হতে পারে এই প্রশ্নের সহজ উত্তর হতে পারে না । কুসংস্কার হয়তো কোনো সময় সমাজে প্রভাব ফেলে আবার কোনো সময় কেবল ব্যাক্তিগত বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে তবে সমাজকে সমাজের মানুষকে সব সময় সজাগ থাকতে হবে যাতে করে সমাজের প্রচলিত কুসংস্কার যেন সমাজের ক্ষতি করতে না পারে । 
তবে প্রচলিত আধুনিক সমাজ ব্যবস্থা আধুনিক দিনের কথা চিন্তা করলে বলা চলে কুসংস্কার সমাজ থেকে বিদায়ের পথে কারণ কুসংস্কার সমাজের চলমান প্রক্রিয়া কোনো দিন হতে পারে না ।
কুসংস্কারের উৎপত্তি হিসাবে প্রধান কারণ বলা চলে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সমাজের লোককথা যেই লোককথা বা উপকথা গুলো সমাজের মানুষ অন্ধভাবে বিশ্বাস করে যার কারণে সমাজের কিছু মানুষ মনে প্রাণ সেই সব কথা বিশ্বাস করতে শুরু করে দেয় যেটি কোনো দিন বিশ্বাস করা উচিত নয় । ভবিষ্যদ্বাণী একটি অন্যতম কুসংস্কার যেটি অনেক দূর্বল চিত্তের মানুষেরা বিশ্বাস করে তবে বেশিভাগ বিশ্বাস করে না । বিজ্ঞানমনস্ক অনেক লেখক কুসংস্কার বিষয়ে লিখালিখি করে তবুও কুসংস্কারকে নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না তবে অবশ্যই একদিন শেষ হবে বর্তমান সময়ে আমরা দেখতে পাই অনেক কুংসংস্কার সমাজ থেকে বিদায়ের পথে মনে হয় অতি শীঘ্রই কুসংস্কার নির্মূল হবে । 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য