কুয়েটের কিছু ছাত্রের জুব্বা এবং মাথায় পাগড়ি পরিধান প্রসঙ্গে।

Ad

কুয়েটের কিছু ছাত্রের জুব্বা এবং মাথায় পাগড়ি পরিধান প্রসঙ্গে।



খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্ররা সাদা লম্বা জুব্বা এবং মাথায় পাগড়ি পরিধান করে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষদিনটাকে স্মরণীয় করতে চেয়েছে। একটু ভিন্ন আঙ্গিকে, ভিন্ন ঢঙে দিনটাকে যাতে উদযাপন করা যায়, সেটাই হয়তো খেয়াল ছিলো তাদের। কিন্তু, তারা চলে এসেছে বাঙালীর আলোচনার টেবিলে। এনেছে সেক্যুলার মহলের কিছু লোক, যারা ছেলেগুলোর এই কান্ডে জঙ্গীপনা, বিশেষ সংস্কৃতির প্রতি দূর্বলতা এবং সর্বোপরি দেশের তরুণদের পিছিয়ে পড়া নিয়ে সবিশেষ শঙ্কিত। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, বাঙালি সংস্কৃতির জন্য হাপিত্যেশ করা এবং ‘আরব্য সংস্কৃতিতে দেশ গেলো গেলো’ রব তোলা এই ভদ্রলোকগুলোর সবাই শার্ট-প্যান্ট-কোট-টাই ঝুলিয়ে চলেন।এই যে বাঙালি সংস্কৃতির শাড়ী-লুঙ্গি ছেড়ে আপনারা শার্ট-প্যান্ট-কোট আর স্কার্ট পরে ‘আধুনিকতা’ ‘প্রগতিশীলতা’ প্রদর্শন করে বেড়ান, আপনাদের কে বোঝাবে যে এই শার্ট-প্যান্ট-স্কার্টের সংস্কৃতি ইংরেজ লর্ড ক্লাইভেরা আপনাদের দেশে আমদানি করেছিলো? মানলাম জুব্বা আর পাগড়ি আরবদের পোশাক। আপনি যা পরে রোজ অফিস করেন, যা পরে ডেটে যান, তা-ও তো অন্য সংস্কৃতির। ভিন্ন একটা সংস্কৃতিকে আপনি নিজে অনুসরণ করলে দোষ নেই, কিন্তু কেউ আপনার ‘অপছন্দনীয়’ সংস্কৃতিকে ‘পছন্দ’ করে গায়ে জড়ালেই দোষ? তাতেই সেই বাঙালি সংস্কৃতির সংহারক হয়ে পড়ে?



কিছুদিন আগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগ ডে হয়। সেই র্যাগ ডে তে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা উদোম গায়ে নেচেছিলো। মেয়েরা ঘিরে ছিলো ছেলেদের, ছেলেদের গায়ে প্যান্ট ছাড়া আর কিছুই ছিলোনা। রঙ মারামারি, এ-ওর মুখে রঙ লাগিয়ে দেওয়া সহ বাহারি সকল উপায়ে তারা উদযাপন করে দিনটি। আচ্ছা বলুন তো, খালি গায়ে নাচানাচি, রঙ মারামারির এই সংস্কৃতি কবে বাঙালি জাতির সংস্কৃতি হয়ে উঠেছে? এইটা নিয়ে আপনারা উচ্চাবাচ্য করেছেন? সোশ্যাল নেটওয়ার্ক উত্তপ্ত করেছেন? করেন নি। কারণ কি? কারণ হলো আপনারা আসলে বাঙালি সংস্কৃতির জন্য কান্নাকাটি করেন না, আপনারা কান্না করেন আপনাদের পূর্ব পুরুষ লর্ড ক্লাইভের সংস্কৃতির জন্য।
‘পোশাকের স্বাধীনতা’ এই শব্দদ্বয় তো আপনাদেরই উদ্ভাবিত, তাইনা? অথচ দেখুন, কিছু ছেলেপেলে নিজেদের অবাধ স্বাধীনতায় জুব্বা আর পাগড়ি পরাতে এই আপনারাই আবার তাদেরকে তিরস্কার করছেন, জাত গেলো জাত গেলো বলে চিৎকার করছেন। তাহলে, ‘পোশাকের স্বাধীনতা’ টা আর থাকলো কোথায়? কেবল কি ইংরেজ আব্বাদের কাছ থেকে আমদানিকৃত পোশাকের বেলাতেই ‘পোশাকের স্বাধীনতা’ ব্যাপারটা খাটবে, অন্য কারো, অন্য কোন সংস্কৃতির বেলায় খাটবে না? কি সুন্দর ভন্ডামি আপনাদের, তাইনা?ভিনদেশি সংস্কৃতি থেকে আমদানিকৃত ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ উদযাপনে আপনাদের আপত্তি নেই, ভিনদেশের ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ পালনেও আপনাদের বাঙালি সংস্কৃতির জাত চলে যায়না, ভিনদেশের অমুক ডে, তমুক ডে তে আপনাদের অবাধ ভক্তি, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা আছে, কেবল সংস্কৃতিটায় যদি কোনোভাবে ইসলামের কোনোকিছু ঢুকে পড়ে, তাহলেই আপনাদের বাঙালি জাতটায় অশুচি লেগে যায়। আপনাদের এহেন আচরণের জন্যই বোধকরি কবিগুরু বলে গিয়েছিলেন, ‘রেখেছো বাঙালি করে, মানুষ করো নি’।

লেখক: আরিফ আযাদ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য